পে-স্কেল কার্যকরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে যা জানা গেল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
পে-স্কেল কার্যকরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে যা জানা গেল

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি দেখা গেছে। তিনটি পৃথক বেতন কমিশনের সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত পুনর্গঠিত কমিটি জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে এবং আগামী ১ জুলাই থেকেই এর প্রথম ধাপ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে, যা এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নবম পে-স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী জুলাই থেকে মূল বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-কমিশন গঠন করে, যা ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মোট মাসিক বেতন প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন প্রস্তাবে এটি বাড়িয়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বাস্তবায়নের গতি ও কাঠামো নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।