বিএসটিআই’র মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন কাজী ইমদাদুল হক


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
বিএসটিআই’র মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন কাজী ইমদাদুল হক

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কর কমিশনার কাজী ইমদাদুল হক। সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ পেয়ে তিনি রোববার (৩ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসটিআইতে যোগদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে প্রশাসন, রাজস্ব খাত এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে কাজী ইমদাদুল হক নিজস্ব দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিসিএস (কর) ক্যাডারের ৭ম ব্যাচের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্যাক্সেস আপিলেট ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং এনবিআরের কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর তিনি কর প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে এনবিআরের কর কমিশনার এবং লার্জ ট্যাক্সপেয়ারস ইউনিট (এলটিইউ)-এ অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক করনীতি এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএএ) বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে এমএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে সাহিত্য ও বিতর্কে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য; তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য প্রতিযোগিতায় দুইবার চ্যাম্পিয়ন হন এবং জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে তিন বছর শহীদুল্লাহ হলের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘কালো টাকা’ পাঠকমহলে আলোচিত।

প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কাজী ইমদাদুল হক নিয়মিত সাহিত্যচর্চা এবং গণমাধ্যমে আয়কর বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। মেধা, সততা ও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি বিএসটিআই’র কার্যক্রমে নতুন গতি আনবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।