২৭ বছর আগের হত্যার ঘটনায় ২ পুলিশসহ তিনজনের যাবজ্জীবন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
২৭ বছর আগের হত্যার ঘটনায় ২ পুলিশসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে সোর্স জালাল আহমেদ শফিকে হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রোববার আদালতের বেঞ্চ সহকারী সায়েদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—হাবিলদার মো. বিল্লাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুর রউফ এবং ডিবি কার্যালয়ের ক্যান্টিন পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে বিচার চলাকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. জিয়াউল হাসান মারা যান। অপর আসামি ড্রাইভার আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ। ওই দিন মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের ছাদের পানির ট্যাংক থেকে জালালের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রমনা থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে ৪ এপ্রিল নিহতের ছেলে আব্বাসউদ্দিন আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এজাহার অনুযায়ী, জালাল আহমেদ ছিলেন একজন মাইক্রোবাস চালক, যিনি ডিবি পুলিশের জন্য বিভিন্ন সময় গাড়ি চালাতেন এবং ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন। এ সুযোগে তিনি ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।

অভিযোগে বলা হয়, চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ডিবি কার্যালয়ের ছাদের পানির ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। হত্যার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ১৯৯৯ সালের আগস্টে সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।