
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা কয়েকদিন ধরে কালবৈশাখী ঝড়, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি, কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই অস্থিতিশীল আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও অন্তত ৫ দিন চলতে পারে।
রোববার (৩ মে) প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত কমে আসবে। তবে একইসঙ্গে বাড়তে পারে তাপমাত্রা এবং দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, মে মাসজুড়ে আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন থাকতে পারে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে এবং সেখান থেকে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর-এর পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে।
এছাড়া মাসজুড়ে অন্তত একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং কয়েক দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের প্রায় সব বিভাগেই দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকবে। একইসঙ্গে নদ-নদীর পানির স্তর কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা অব্যাহত থাকলেও ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে মে মাসে একদিকে ঝড়-বৃষ্টি, অন্যদিকে তাপপ্রবাহ—দুই ধরনের চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে পারে দেশ।
আপনার মতামত লিখুন :