জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘অনুমিত’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বড় পরিসরে সেনা কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় ন্যাটো জোটের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC News–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি শুধু ইউরোপ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করছে জোটটি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। শনিবার রাতে সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এটি কেবল শুরু এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মার্কিন সেনা কমানো হতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সময়সীমা জানাননি।
বর্তমানে জার্মানিতে ৩৬ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। এর পাশাপাশি ইতালিতে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মূলত ইউরোপ থেকে সামরিক মনোযোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থানান্তরের কৌশলের অংশ। এর আগে রোমানিয়াতেও সেনা উপস্থিতি কমানো হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরের নয়, বরং জোটের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। অন্যদিকে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জার্মানি ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি তার সামরিক বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইউরোপ নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ন্যাটো জোটের ভেতরে সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়েও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :