মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে সরকারের বড় উদ্যোগ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে সরকারের বড় উদ্যোগ

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নতুন ক্লাসরুম নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি ১০টি রেকর্ডিং স্টুডিও, ৩০টি মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল (আইইপি) থাকবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর এসব ক্লাসরুমে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা থাকবে, যাতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠ ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা যাবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে এসব ক্লাস দেখতে পারবে। পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যান করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস নোট ও কোর্সওয়্যারও সংগ্রহ করতে পারবে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, চীন সরকারের সহযোগিতায় দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানের প্রযুক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচিত স্কুলগুলোতে আধুনিক ও সমৃদ্ধ শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষা কার্যক্রমকে সমন্বিত করবে। এর জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) জায়গা নির্ধারণে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, মোট ৩০০টি স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরে আধুনিক মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। পুরো ব্যবস্থাটি একটি ক্লাউড-ভিত্তিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকবে।

মাউশির গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (টিএপিপি) তৈরি করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে হুয়াওয়ের একটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে একটি ক্লাসরুমে স্মার্ট বোর্ড ও প্রতিটি শিক্ষকের জন্য ট্যাব ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে বগুড়া ও চাঁদপুরের দুটি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর এই স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্যোগ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে এবং শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।