বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রীর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রীর

বাজারে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেউ যেন ইচ্ছেমতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে বা মজুদদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে—সে বিষয়ে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বিলম্বের শিকার না হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কঠোর নজর রাখতে হবে। জনমুখী ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

কৃষি খাত নিয়ে তিনি বলেন, কৃষক যেন তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পান এবং সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সহজলভ্য হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিকে কেবল উৎপাদন খাত নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট আরও কার্যকর ও নিয়মিতভাবে পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি, যাতে আইন লঙ্ঘনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন কেউ ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে এবং কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়—সে জন্য নিয়মিত ও কঠোর বাজার নজরদারি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কার্যালয়ে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণের ন্যায়বিচার ও সমান সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রশাসনের মানবিক ও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তরুণ সমাজকে সঠিক পথে রাখতে সারা বছরব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে আয়োজন করতে হবে।

এছাড়া ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও ভালো পারফর্ম করা শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না। মতভেদ থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ডিসি সম্মেলন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।