বড় পরিবর্তন আসতে পারে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
বড় পরিবর্তন আসতে পারে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং আসক্তি তৈরি করে এমন নকশা ব্যবহারের অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার-এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে।

অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজের দায়ের করা এই মামলার বিচার সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সান্তা ফেতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে কিশোর ব্যবহারকারীরা বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকে এবং এতে তাদের মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণসহ বিভিন্ন অনলাইন ঝুঁকি থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি।

মামলার মূল আইনি প্রশ্ন হলো, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো কি ‘পাবলিক নিউসেন্স’ বা জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে কিনা। যদি আদালত এই অভিযোগ গ্রহণ করে, তবে কোম্পানিটিকে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে—যেমন অ্যালগরিদম পরিবর্তন, বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা বা কিছু ফিচার সীমিত করা।

এর আগে মার্চ মাসে মামলার প্রাথমিক ধাপে জুরি বোর্ড রায় দেয় যে, মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মকে কিশোরদের জন্য নিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই রায়ের পর কোম্পানিটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়।

নতুন ধাপে রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলে জানা গেছে। এই অর্থ দিয়ে ১৫ বছরের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে নতুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসক নিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে মেটা অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত ও বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেছে। কোম্পানির মতে, প্রস্তাবিত কিছু পরিবর্তন প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং তা মানতে হলে নিউ মেক্সিকোতে তাদের সেবা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলা শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের সীমায় সীমাবদ্ধ নয়; যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আরও ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং শত শত স্কুল জেলা একই ধরনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ফলে এই মামলার রায় প্রযুক্তি শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পাবলিক নিউসেন্স’ ধারণাটি আগে মূলত পরিবেশ বা তামাক খাতের মামলায় ব্যবহৃত হলেও এবার তা ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে প্রয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। তাই এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।