
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মতো মাঠের বাইরেও নানা বিতর্কে আলোচিত সাকিব আল হাসান আবারও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন এই তারকা অলরাউন্ডার—দুই বছরেও কেন কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি?
সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যে সংবাদ প্রকাশ হলেও সেগুলোর বিস্তারিত কেউ দিতে পারেন না। “কেউ বলল, শেয়ার মার্কেটের কারসাজি আছে। কিন্তু সেটা কী—দুই বছরেও কি কেউ কিছু প্রমাণ করতে পেরেছে?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সাকিব জানান, তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা এবং একটি হত্যা মামলাও রয়েছে, কিন্তু দেড় বছর পার হলেও এসব মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এছাড়া একটি চেক বাউন্সের মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি একটি সাধারণ ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার অংশ, যা অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সহজেই নিষ্পত্তি করা যায়। তবে তার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে রাখায় সেটিও করতে পারছেন না।
“আমার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। হয়তো তদন্তের স্বার্থে করা হয়েছে, কিন্তু দেড় বছর হয়ে গেল—এখনও কিছুই পাওয়া যায়নি। আমার বিশ্বাস, কিছু পাওয়ার সুযোগও নেই,” বলেন তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা প্রমাণ না থাকলে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার দাবি জানান এই অলরাউন্ডার।
সাকিবের ভাষায়, “লোকের কথা শুনলে মনে হয় আমার হাজারো সমস্যা। কিন্তু ইচ্ছে থাকলে তদন্ত শেষ করতে কতদিন লাগে? দোষ প্রমাণ হলে শাস্তি দিন, আর না হলে মুক্তি দিন।” তিনি আরও বলেন, তার ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হলে চেক বাউন্সের বিষয়টিও দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
এদিকে দেশে না ফেরার পেছনে বড় কারণ হিসেবে হত্যা মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন সাকিব। ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত রুবেল হত্যার ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে, যা নিয়ে দেশে ফিরলে গ্রেপ্তারের শঙ্কা রয়েছে। তবে এ মামলায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলেই দাবি করেন তিনি।
আদাবর থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, “যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে আমি জীবনে গিয়েছি বলে মনে পড়ে না। তদন্তে যদি আমার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া যায়, তাহলে তা স্পষ্টভাবে বলা উচিত।” সব মিলিয়ে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান।
আপনার মতামত লিখুন :