
দীর্ঘ দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। কয়েক দফা দেশে ফেরার চেষ্টা করেও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে। ফলে তার দেশে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা ইস্যুই।
তবে অনেকের ধারণার বিপরীতে, ভিআইপি প্রটোকল নয়—বরং সাধারণ নাগরিকের মতো ‘স্বাভাবিক নিরাপত্তা’ নিশ্চিত হলেই দেশে ফিরতে চান এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সাকিব।
তিনি বলেন, “আমি তো বলছি না যে নিরাপত্তা মানে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। ওরকম কিছু আমি চাই না।” বরং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে যেন তাকে হয়রানি করা না হয়—এটাই তার মূল প্রত্যাশা। সাকিবের ভাষায়, “একটা স্বাভাবিক নিরাপত্তা তো আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করবে না—এটুকুই আশা করি। সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তো এটুকু চাওয়া যায়।”
দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলেই দ্রুত ফিরবেন। “আমি ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব—কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে। এইটুকু নিশ্চয়তা যদি দেওয়া হয়, আমি দুই দিনের মধ্যেই দেশে চলে আসতে পারব,” যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন সাকিব। এরপর আর জাতীয় দলে দেখা যায়নি তাকে। ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার আগেই জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চান। তবে গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তার দেশে ফেরা আর সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা মিললে, শিগগিরই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আবারও মাঠে সাকিবকে দেখতে পাবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
আপনার মতামত লিখুন :