
সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির মূল নীতি হিসেবে অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এর ভূমিকা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কর্মকর্তাদের সবসময় দায়িত্বশীল ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও স্থায়ী নয়। কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করাই প্রশাসনের মূল শক্তি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজাই সরকারের অগ্রাধিকার।
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে উপস্থাপিত অঙ্গীকারগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার পর তিনি সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে পৌঁছান। পথে সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং তিনি হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
দ্বিতীয় দিনে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা এবং জাতীয় সংসদে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। তৃতীয় দিনে সশস্ত্র বাহিনী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসহ গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ডিসিরাও অংশ নেবেন।
আপনার মতামত লিখুন :