রামুতে ছাত্রলীগের মিছিল: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার জেলাা ক্রাইম রিপোর্টার, মোহাম্মদ নোমান  প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউনের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামুর  জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পূর্ব মুরাপাড়ার জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কে একটি মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার ছবি ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল এবং তাদের কর্মকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 গত সোমবার রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ নূরুল আবছার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে দাবি করা হয়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দামের নির্দেশনায় এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক ও এরশাদুল কাউসার সাকিবের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অংশগ্রহণকারীরা মোটরসাইকেলে করে চলে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যানার, ১৩টি কাঠের লাঠি ও ১৯টি ইটের টুকরা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, উসকানি, অর্থায়ন, আশ্রয় প্রদান এবং জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামু উপজেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। একই সময়ে রামু ও উখিয়ার পালংখালীতে ছাত্রলীগের কর্মসূচিকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আসামিদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলায় নাম থাকা কোনো আসামির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।