তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সংকট শনাক্ত করবে প্রযুক্তি: বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি, খাদ্য ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য নিয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি নির্ভরতা এবং দেশীয় উৎপাদন-আমদানির সমন্বয় বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানির উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যেন হঠাৎ করে বাজারে ঘাটতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করবে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা যেন কোনোভাবেই ভেঙে না পড়ে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি জানান, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন পরিস্থিতি, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বছর দেশে নির্দিষ্ট কোনো ফসলের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি যে দেশগুলো থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করলে সুবিধা হবে এবং কোন বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এআই প্ল্যাটফর্ম গত ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য সংকট ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এসব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে দ্রুত ও নির্ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, এই কার্যক্রম শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে না। কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে যুক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, এআই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা জরুরি। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ গড়ে তোলা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে এই প্রযুক্তি উন্নয়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন হলেও ধাপে ধাপে এটি মানুষের তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে। দ্রুত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে, গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ সারা বছর স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত হবে।

সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।