দেশে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা চেয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছেন, বিশেষ করে গৃহস্থালি পর্যায়ে নারী, শিল্প খাতের উদ্যোক্তা এবং গণপরিবহনের যাত্রীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসের চাহিদা মূলত দুটি উৎস থেকে পূরণ করা হয়। এর একটি হলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস এবং অন্যটি আমদানি করা এলএনজি, যা এফএসআরইউর মাধ্যমে রিগ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ওই এফএসআরইউর মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণে গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কমাতে হয়েছে এবং আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গণপরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দিয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে এক্সেলারেট এনার্জির আঞ্চলিক প্রধান কর্মকর্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ত্রুটিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেখান থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ এফএসআরইউটি পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি পাঠান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে কথা হয়। এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও টিমের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ সংকটের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সহযোগিতার অনুরোধ পেয়েছেন। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানান তিনি।