বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও কর্মস্থল বিবেচনায় তিন স্তরের পৃথক কমিটির মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই এবং আদেশ জারি করা হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবেদন সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলভিত্তিক কমিটি যাচাই-বাছাই করবে।
এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের পরিচালক। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) সদস্য হিসেবে থাকবেন। দপ্তর ও সংস্থার পদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের আদেশ এ কমিটি জারি করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি ঢাকা মহানগর ও অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার পদ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করবে। অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার সব পদে বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেবে।
নতুন নীতিমালায় বদলির ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকসহ কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি পূর্ণ না করা পর্যন্ত সাধারণভাবে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতিতে যৌক্তিকতা থাকলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে।
এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল কিংবা কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে পছন্দের সুবিধাজনক স্থানে পদ খালি থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের বিষয়টিও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, দূরারোগ্য ব্যাধি, পারিবারিক সমস্যা এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। তবে পিডিএস হালনাগাদ না থাকলে, অসম্পূর্ণ আবেদন করলে, বিভাগীয় মামলা বা তদন্তাধীন অভিযোগ থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে বিগত তিন বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা জারির পর এ সংক্রান্ত আগের সব নীতিমালা বাতিল বলে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা কমবে এবং প্রক্রিয়াটি আরও গতিশীল হবে।