দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মেরামতের কাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এ সমস্যার কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও অনেক বেড়েছে।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় সমস্যা এখন আর্থিক সংকট। নিয়মিত বিল পরিশোধে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরুর জন্য দর-কষাকষি ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইপিএসএসের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।
উল্লেখ্য, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি পরিচালনা করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে।