আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা সবসময় নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে পুঁজি বিনিয়োগ করতে চান। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ তো আসবেই না, পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন। তাই দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে নির্মাণাধীন চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ শিল্পাঞ্চল দেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি দীর্ঘমেয়াদি মডেল হিসেবে কাজ করবে। ৫০ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির আওতায় শিল্পাঞ্চলটি পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজনে আরও ৫০ বছর নবায়নের সুযোগ থাকবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প এলাকায় নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, নির্বিঘ্ন কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অনুমোদন, ইউটিলিটি সংযোগ ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই শিল্পাঞ্চল স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।