সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা কোনো অনুসন্ধান নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্ত করতে গিয়ে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

আরিফ হোসেন খান বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে যে তদন্ত কার্যক্রম চলছে, সেখানে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। এসব তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর একদিন পর রোববার তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় ওঠেন।

অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বৈরাচারের শেষ সময়, অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে তিনি সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে ছিলেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত মামলা করার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ রয়েছে। কেউ তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলে সেটি তাদের স্বাধীনতার অংশ। তবে সরকার এখন পর্যন্ত আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় দেখছে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও সেগুলো যাচাই করে সরকার এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো বিষয় খুঁজে পায়নি।