সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনব্যাপী সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তেহরান। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত ইরানের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।
আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেব্বি দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী ড্রোন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ছিল নতুন ধরনের ড্রোন। এ ছাড়া সুরক্ষিত হ্যাঙ্গারে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত সরঞ্জামের ওপর চালানো হয়। তবে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, পাঁচটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছয়টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, তিনটি বিমান ও নৌবাহিনীর নজরদারি রাডার, আটটি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি লজিস্টিকস কেন্দ্র, যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও অস্ত্রের গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। মোহেব্বি অভিযোগ করেন, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র আগে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা আটটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থাপনার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার প্রকৃত চিত্র যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
এদিকে যুক্তরাজ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে মোহেব্বি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তাদেরও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ইসরায়েলকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনকে ভুল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইসরায়েল এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রভাবিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।