বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ: আইপিসির বিশ্লেষণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। যা বিশ্লেষণ করা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’ বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইপিসি হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা ও বিস্তৃতি বিশ্লেষণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর মাধ্যমে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও তদারকি ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা, কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি। কর্মশালায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। আইপিসির এই বিশ্লেষণ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা দিতে এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, কার্যকর নীতিনির্ধারণের জন্য তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবেদন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণে সহায়ক হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বন্যা, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জরুরি খাদ্য সহায়তা বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার সুপারিশ করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।