সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধাসহ পাঁচটি জেলা নিয়ে বগুড়া বিভাগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট চার জেলার সংসদ সদস্যরা স্বেচ্ছায় বগুড়াকে বিভাগ করার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, চার জেলার সংসদ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলা নিয়ে বগুড়াকে বিভাগ করার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিতে এখন খুব বেশি সমস্যা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নগর সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা এবং বগুড়ার ১২টি পৌরসভার উন্নয়নে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি বর্ষাকালে জরুরি রাস্তা সংস্কার ও মেরামতের জন্য নিজ নিজ এলাকার জন্য ১০ কোটি টাকা করে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বগুড়ার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১ হাজার ৮০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সারিয়াকান্দি বাঁধ সুরক্ষা, শেরপুর, বনানী ও মাটিডালী এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়গুলো উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
এ ছাড়া সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে অন্যতম বগুড়াকে বিভাগে উন্নীত করা। নতুন বিভাগ গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।