ট্রাইব্যুনালে ফেরদৌস-শাওন-সোমা ও আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানির অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, কনটেন্ট নির্মাতা হিরো আলমসহ ২৭ জন সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক ও শিল্পীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস এ অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উসকানি, সমর্থন এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতার ভূমিকা ছিল।

অভিযোগে থাকা ২৭ জনের মধ্যে রয়েছেন—চিত্রনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, নিপুন আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, সুজাতা আজিম, জায়েদ খান, অজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিশপট্টা, শান্তা ফারজানা, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম এবং সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

অভিযোগকারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তরা অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও অভিযুক্তদের কেউ কেউ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে কটূক্তি, উসকানিমূলক বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এখন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।