মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেমপ্লেক্সসহ ৩ হাসপাতালে, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঝটিকা সফর

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলার তিনটি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাথরুমসহ পরিত্যক্ত কক্ষে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রীর স্তূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সড়কপথে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

হাসপাতালে প্রবেশ করেই মন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রোগীরা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। পরে তিনি হাসপাতালের ওষুধের মজুত তালিকা ও বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ খুলে সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই-সিরিঞ্জসহ বিপুল পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী দেখতে পান মন্ত্রী। এমনকি হাসপাতালের শৌচাগারেও ওষুধ ও স্যালাইন পড়ে থাকতে দেখে তিনি বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

পরে মন্ত্রী হাসপাতালের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। কয়েকজন চিকিৎসকের হাসপাতালে আসা-যাওয়ার সময়ের সঙ্গে হাজিরার অসামঞ্জস্য দেখতে পান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চান। এ ছাড়া হাসপাতালের পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিজস্ব ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও খোঁজ নেন মন্ত্রী। অভিযোগ যাচাই করতে তিনি ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। তবে সেখানে কোনো চিকিৎসককে উপস্থিত পাননি। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে এ বিষয়ে ভর্ৎসনা করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সিভিল সার্জন ছুটিতে থাকার কথা জানালে মন্ত্রী জানতে চান, তিনি কার অনুমোদনে ছুটি নিয়েছেন। পরে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ সময় সিভিল সার্জনের ছুটির বিষয়ে অবগত না থাকার কথা জানান বিভাগীয় পরিচালক। পরে মন্ত্রী তাকে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ যেন যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মোরেলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের বিষয়ে অভিযোগ ও প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেখানে সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এরপর মন্ত্রী শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। শরণখোলা হাসপাতালে এক রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে এক সিনিয়র নার্সকে সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি রোগীর হাতে নিজের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে জানানোর পরামর্শ দেন।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালেও বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর, শৌচাগার ও গুদাম পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। হাসপাতালগুলোর জনবল সংকট দূর করতে দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের আশ্বাস দেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন আকস্মিক পরিদর্শনে স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।