বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে নিজেদের দলে পাওয়ার সুযোগ ছিল কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় তার স্বর্ণালী ক্যারিয়ার, ইতালীয় বংশোদ্ভূত পরিচয়সহ বিভিন্ন কারণে অনেক দেশই মেসিকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এবার সামনে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সঙ্গেও রয়েছে মেসির এক ঐতিহাসিক পারিবারিক যোগসূত্র।
ইতালির ইতিহাসবিদ ও ব্যাংকার ফিওরেঞ্জো সান্তিনির গবেষণায় উঠে এসেছে, মেসির মাতৃসূত্রের পূর্বপুরুষদের একজনের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের ইতিহাস। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনির পারিবারিক বংশতালিকা অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি এই তথ্য খুঁজে পান।
সান্তিনি প্রথমে মেসির পিতৃসূত্রের ইতালীয় শিকড় অনুসন্ধান করেন। পরে মাতৃসূত্রের ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এই পরিবারের এক শাখা উনিশ শতকের শেষ দিকে ব্রাজিলে অভিবাসন করেছিল।
গবেষণা অনুযায়ী, মেসির মাতৃসূত্রের প্রপিতামহের বাবা রানিয়েরো কোচেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর স্ত্রী রোজা রিক্কেজ্জা ও দুই সন্তানকে নিয়ে ‘ওয়াশিংটন’ নামের একটি জাহাজে করে তিনি ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান।
ব্রাজিলে আসার পর সরকারি নথিতে তার নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘রামিয়েরো কনচেত্তিনি’। পরে সাও পাওলো রাজ্যের একটি এলাকায় কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। সেখানেই ১৯০৪ সালে জন্ম নেন তার বংশধর আরদেরিগো। জন্মনিবন্ধনের সময় নাম ও পদবির পরিবর্তনের কারণে আরদেরিগোর নাম হয় ফেদেরিকো এবং ‘কোচেত্তিনি’ পদবি পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘কুচ্চিত্তিনি’।
এই ফেদেরিকোই ছিলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ। তার জন্মের এক বছর পর ১৯০৫ সালে পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। সেখানেই পরবর্তী সময়ে জন্ম নেন মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি, মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।
সান্তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে তিনি মেসির মাতৃসূত্রের বংশতালিকা তৈরি করেন। তিনি বলেন, ইতালিতে ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবির কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি তাকে অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তোলে। পরে বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে তিনি জানতে পারেন, ব্রাজিলে পৌঁছানোর পরই এই পরিবারের নাম ও পদবিতে পরিবর্তন আসে।
এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়। মেসির ব্রাজিল-যোগসূত্র প্রকাশের পর দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও রসিকতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মেসিকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে কাল্পনিক ছবি প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, মেসি যদি ব্রাজিলের হয়ে খেলতেন, তাহলে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস হয়তো আরও ভিন্নভাবে লেখা হতো।