রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা শক্তিশালী বোমা (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল। এ ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার। এর আগে শুক্রবার রাতে মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মুক্তা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাটি রাখা হয়েছিল। তবে সময়মতো বোমাটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উল্টো রথযাত্রার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মো. মুক্তা। রথযাত্রার নির্ধারিত পথ ছিল ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রম পর্যন্ত।
এ সময় ট্রাফিক বিভাগ থেকে ডিএমপি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে মতিঝিলে একটি বোমাসদৃশ বস্তু পড়ে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এসআই মুক্তা ও তার সহকর্মীরা সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটর কক্ষের পাশে গিয়ে স্থানটি ঘিরে রাখেন।
পুলিশ জানায়, একটি ছাতার ভেতরে রাখা ওই বোমায় মিটমিট করে আলো জ্বলছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় রথযাত্রার মিছিল ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা মিছিলকারীদের সতর্ক করে জায়গাটি এড়িয়ে যেতে বলেন। পরে মিছিলটি শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে চলে যায়।
মিছিল চলে যাওয়ার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি এবং বেয়ারিংয়ের বল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং মানুষের জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বোমাটি রাখা হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বোমাটি উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।