জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অবিস্মরণীয় অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে আগামী ১৫ আগস্ট বিশেষ স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে এ বিশেষ স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল। সে সময় আন্দোলন দমনের নানা প্রচেষ্টা চললেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আত্মত্যাগ ও অবদানের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহত, অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ইশরাক হোসেন বলেন, আন্দোলনে যে-ই অংশ নিয়েছেন এবং যে অবস্থান থেকেই অবদান রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। কারও অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে ১৬টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে জুলাই-পরবর্তী সময়ের বৃহত্তর ঐক্যের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান শুধু স্মরণসভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ‘আগামী বাংলাদেশের ভাবনা’ নিয়েও আলোচনা হবে। তরুণদের মতামতকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তরুণদের বক্তব্য শুনবেন।
অনুষ্ঠান বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের সব মনোযোগ দুর্গত মানুষের সহায়তায় ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৫ আগস্ট সম্ভাব্য নিরাপদ তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, গেজেটভুক্ত আহতদের ভাতা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন কারণে যারা গেজেটভুক্ত হতে পারেননি, তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এটি কোনো দয়া নয়, বরং তাদের ন্যায্য অধিকার। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতাকে সরকারের নবগঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আরও কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।