দেশে গ্যাস সংকট, বিপাকে সিএনজিচালকরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও সিএনজিচালকরা। বাসাবাড়িতে রান্নার সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস নিতে পারছেন না।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মগবাজার এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি। মগবাজার পাম্প থেকে শুরু করে ইস্কাটন রোডের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে পর্যন্ত সিএনজির লাইন দেখা যায়। অন্যদিকে মগবাজার রেলগেট এলাকার সিএনজি স্টেশনের সারি ছড়িয়ে পড়ে মগবাজার মোড় পর্যন্ত।

সিএনজিচালকরা জানান, গ্যাস নিতে গিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তারা।

সিএনজিচালক মনিরুল বলেন, “আজ তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো গ্যাস নিতে পারিনি। গতকালও প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। দিনের বড় একটি সময় গ্যাসের পেছনেই চলে যাচ্ছে।” আরেক চালক রুবেল বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। আয় কমে গেছে। গাড়ির জমার টাকা দেওয়ার পর হাতে তেমন কিছু থাকছে না।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গেছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সংকটের কারণে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এলএনজি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধানে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত কারিগরি সমস্যা সমাধান হলে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।