জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেট শহরের যানজট কমাতে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসীর চলাচলে স্বস্তি আসবে এবং শহরের যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণ ও সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট নগরীকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত শহরে পরিণত করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নত করা হবে। জরাজীর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরবাসীকে উন্নত নাগরিক সেবা দিতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। তবে সওজের আওতাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। বৈঠকের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক নির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও সংস্কারে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে।