রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। এর আগে দুপুরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ নেওয়া হয়। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের শপথের বিধিতেও উল্লেখ রয়েছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এখন থেকে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। অসুস্থতার কারণে মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আলাদা কোনো চিকিৎসকের সনদের প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশার অবসান হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর ও বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা অনিশ্চয়তার সুযোগ নেই। এখন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।