আন্দোলনের নামে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তবে এ ধরনের চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, এবারও হবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন বিজেপির এই নেতা।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, কিছু মানুষ আন্দোলনের আড়ালে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, যারা এসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা এর আগেও বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য, কিছু মানুষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে বারবার সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “এরা অনেক চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কা বানাতে। কিন্তু সফল হয়নি, এবারও হবে না।” বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশের মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন। তাদের লক্ষ্য থাকে এমন সময় আন্দোলন করা, যখন সংসদ অধিবেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি বেশি থাকে।
বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, এসব ব্যক্তি বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করছে। তবে সরকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “সরকার নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।”
আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, তাদের পেছনে সাধারণ মানুষের সমর্থন নেই বলেই তারা নির্বাচনে বারবার পরাজিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যেন তাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদেরও সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী নেতারা দেশের উন্নয়ন ও ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং বিদেশি শক্তির প্রভাবে কাজ করছেন।