জামায়াতের সেই এমপিকে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর। তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি শ্যামনগর প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং তার দলীয় ও সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গাজী নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা বলেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠায় তাকে জামায়াতের দলীয় পদ এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণ করা উচিত। তারা আরও দাবি করেন, শ্যামনগরের জনগণ তাকে আর সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় না এবং তাকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, যারা ইসলামের আদর্শের কথা বলেন, তাদের ব্যক্তিজীবনেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর উচিত সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওই বিয়ের দাবি নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।