টানা অতিবৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন স্থানে আধুনিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।
জানা গেছে, গত রোববার (১৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিদ্যালয় ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভবনের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আশপাশের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কেও পানির প্রবল স্রোতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য আপাতত স্থানীয় একজন ভদ্রলোকের বৈঠকখানায় অস্থায়ীভাবে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছেন। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্তমান ভবন সংস্কারের পরিবর্তে নতুন স্থানে বিদ্যালয় স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান স্থানে ভবন সংস্কার করলেও ভবিষ্যতে আবার পাহাড়ি ঢল বা আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলজিইডির প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি কমাতে এ অঞ্চলে সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম, খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।