তেলাপোকাদের আন্দোলন, অবশেষে মুখ খুললেন মোদি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে চলমান আন্দোলনের মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একটি ‘ত্রুটিহীন’ ও নির্ভরযোগ্য সরকারি পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোদি বলেন, দেশের তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবাইকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তরুণদের অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদে বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় দেশের প্রায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনিয়মের প্রতিবাদে গত সোমবার দিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরপরই সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি জানান, প্রশ্ন ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, তারা দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান। পুলিশের অভিযানের পর সাময়িকভাবে সংসদমুখী মিছিল বন্ধ রাখলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। নিট প্রশ্ন ফাঁস ইস্যু এখন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।