কলমাকান্দায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও উপবৃত্তি বিতরণ

কলমাকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি, জুয়েল  প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা প্রসার এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও নগদ উপবৃত্তি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামসুজ্জামান আসিফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সমান মর্যাদায় দেখার রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে ‘অনগ্রসর’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিবর্তে তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে সমঅধিকারের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গারো, হাজংসহ সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

ডেপুটি স্পিকার জানান, বসতঘরহীন পরিবারের জন্য কলমাকান্দায় নয়টি এবং দুর্গাপুরে ১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কার, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাজং ভাষা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষা পৌঁছে দিতে হাজং ভাষার বই প্রকাশ এবং মন্দিরভিত্তিক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাদকবিরোধী সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

সেলাই মেশিনপ্রাপ্ত নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সহায়তাকে আয়বর্ধক কাজে ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে হবে। আর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উপবৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি ভালোভাবে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণা।

অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৪২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বাইসাইকেল, ২৮ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৪১ জন শিক্ষার্থীকে তিন হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৮৫ জনকে পাঁচ হাজার টাকা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সাত হাজার টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নয়টি পরিবারের কাছে নতুন বসতঘর হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসন খাতে এ ধরনের সহায়তা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।