ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়ম ও সংস্কারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা প্রকৌশলী, সমাজকর্মী, উদ্ভাবক, শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙতে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে তার চলাফেরা, বক্তব্য দেওয়া ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে রাখা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে দিল্লির সাফদারজং হাসপাতাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াংচুক জানান, তার দেওয়া তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে তিনি অনশন ভাঙবেন। ওয়াংচুকের প্রথম শর্ত হলো—প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে সরকারকে দায় স্বীকার করতে হবে।
দ্বিতীয় শর্তে তিনি বলেন, তিনি ও ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব যদি সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছাতে পারেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা তাদের দাবিগুলো সংসদে উত্থাপনের আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি অনশন শেষ করবেন। তৃতীয় শর্তে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে সংসদে যাওয়া সম্ভব না হলে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা হাসপাতালে এসে একই ধরনের আশ্বাস দিলেও তিনি অনশন ভাঙবেন।
বার্তার শেষে সোনম ওয়াংচুক দাবি করেন, তাকে সাফদারজং হাসপাতালে ‘অবৈধভাবে আটকে’ রাখা হয়েছে। সেখানে তার চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াংচুক ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সমর্থকদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সংসদ চলো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে আন্দোলনে যুক্ত হয়ে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক।
দীর্ঘদিন অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (১৮ জুলাই) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার সমর্থকেরা। অন্যদিকে, দিল্লি উচ্চ আদালত জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করেই হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্যের ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।