দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলে শতাধিক যাত্রী ও নাবিক নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে গেছে। দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এ ঘটনাকে। দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জুলাই) গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গায়ানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৬৭ জনের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে বড় পরিসরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ‘এমভি বারিমা’ নামের ফেরিটি শনিবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন থেকে তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে রওনা হয়। এসেকুইবো অঞ্চলটি ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
রাত ১১টার কিছু পর ফেরিটি বিপদসংকেত পাঠালে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে গায়ানা ডিফেন্স ফোর্সের কোস্ট গার্ড, এয়ার কর্পস, বেসরকারি উড়োজাহাজ, মাছ ধরার নৌযান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। গায়ানার গণপূর্তমন্ত্রী হুয়ান এডঘিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ফেরিটিতে অতিরিক্ত যাত্রী বা অতিরিক্ত মালামাল ছিল না। এমনকি যান্ত্রিক কোনো ত্রুটির প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তার দাবি, জোয়ারের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।
তিনি জানান, এমভি বারিমা ফেরিটির ৩৯৭ জন যাত্রী এবং ২৮৪ টন মালামাল বহনের অনুমোদন ছিল। দুর্ঘটনার সময় এতে ২৬৮ টন মালামাল ছিল, যা অনুমোদিত সীমার মধ্যেই ছিল। ফেরিটিতে ২৫০টি লাইফ জ্যাকেট, দুটি লাইফবোট এবং ছয়টি ফোলানো যায় এমন ভেলা ছিল বলেও জানান তিনি।
গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে অনুসন্ধান এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আগে ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অভিযান চললেও তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে আরও উড়োজাহাজ ও নৌযান যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিতে থাকা যাত্রী ও নাবিকদের তালিকা অনুযায়ী তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নিখোঁজ প্রত্যেক ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।