রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে জয়পুরহাট চিনিকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি, খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জয়পুরহাট চিনিকলে ফটক সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ চিনি শিল্প কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন।

সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা সমাবেশে অংশ নেন। মিলের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শ্রমিকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রতিবাদী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলী আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চিনি শিল্প কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জায়েদ হোসেন, জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, অর্থ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম যাদু, সাংগঠনিক সম্পাদক জুবাইর পারভেজ, মিলের সাবেক শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান, আহসান হাবীব রুমেল, আতিকুল ইসলাম শান্ত ও জহুরুল ইসলাম জুয়েলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিনিকলসহ বাংলাদেশ চিনি শিল্প কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে মৌসুমি শ্রমিকদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণভাবে স্থায়ী পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত পে-কমিশনের মতো শ্রমিকদেরও ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা এবং মজুরি কমিশনের সুবিধা প্রদান করতে হবে।

বক্তারা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান লিজ বা বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে। জয়পুরহাট চিনিকলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও আখচাষি জড়িত। চিনিকলকে ঘিরে এ অঞ্চলের অর্থনীতিও অনেকাংশে নির্ভরশীল।

শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে চিনিকলগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।