বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ২ দশমিক ৬৯ ডলার বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৭৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ১১ জুনের পর এটি সর্বোচ্চ দাম। এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটিও ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনেও নতুন করে ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই নৌ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ওমানের কুমজারের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বার্কলেজের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলেন, পুনরায় আরোপিত অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তার মতে, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি তেলের বাজারে এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৮ জুলাই) হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন চলাচল করেছিল আটটি। একই সময়ে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার ও বড় আকারের ক্রুড ক্যারিয়ারও প্রণালীতে প্রবেশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।