গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের সিঙ্গিপাড়া বাজারসংলগ্ন বিআরটিসি ভবনের পাশের নাসির সড়কে দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলমান জলাবদ্ধতার অবসান হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের তিন দিনের মাথায় গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশনায় উপজেলা বিএনপি, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পানি নিষ্কাশনের কাজ সম্পন্ন করেন। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে প্রায় ৩০০টি পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিআরটিসি ভবনের পাশের নাসির সড়কে আগে একটি কালভার্ট ছিল। প্রায় তিন বছর আগে সড়ক প্রশস্তকরণের সময় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই ওই এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়তেন এলাকার বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। ঘর থেকে বের হওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং গবাদিপশু পালনসহ নানা কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। বর্ষাকালে প্রায় ৩০০ পরিবারের মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা বিএনপি ও বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশনায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার কাজ করেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এলাকায় জমে থাকা পানি সরে যায় এবং জনদুর্ভোগ কমে আসে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম. মুক্তার হোসেন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুর ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান খান, পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস, সহ-সভাপতি মাসরাফি ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সুমন শেখ, যুবদল নেতা শামিম আহমেদ টুটুলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘ তিন বছরের কষ্টের পর দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। জনদুর্ভোগ নিরসনে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।