সখীপুরে দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো, স্থায়ী সেতুর দাবি

টাঙ্গাইল ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, আল-আমীন  প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ও কালিয়া ইউনিয়নের দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখনো একটি বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের বাসিন্দাদের সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাঁকো পারাপার করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি থেকে ৬ নম্বর কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালায় যাওয়ার একমাত্র সড়কের মাঝখানে রয়েছে মরিচকুঁড়ি জোড়া নামে একটি ছোট খাল। ওই খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়েই দুই গ্রামের মানুষের চলাচল করতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনোভাবে মানুষ পারাপার করতে পারলেও এই সাঁকো দিয়ে যানবাহন চলাচল কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহন প্রায় অসম্ভব। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে ধান, হলুদ, কচু, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হলেও বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন ও আজগর আলী জানান, মরিচকুঁড়ি থেকে বাসারচালার সরাসরি দূরত্ব খুব কম। বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করলে পাঁচ থেকে সাত মিনিটেই পার হওয়া যায়। কিন্তু বিকল্প হিসেবে মহানন্দপুর হয়ে ঘুরে যেতে হলে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগে।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। পানির প্রবল স্রোতে প্রায়ই সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা নড়বড়ে হয়ে যায়। এতে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।