নাটোরের লালপুর উপজেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তুহিন (৮) ও তুষার (৪) নামে দুই সহোদর ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু এবং তাদের বাবা মরজেম আলীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে কয়েকদিন আগে মা তুলি বেগম বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর দুই ছেলে তুহিন ও তুষারকে নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তাদের বাবা মরজেম আলী।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে বড় ছেলে তুহিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছোট ছেলে তুষার। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ছোট ছেলের মরদেহ বাড়িতে আনার পর বাবা মরজেম আলীও অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর নিহত দুই শিশুর মা তুলি বেগম লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, নিহতদের নানা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দুই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একই পরিবারের দুই শিশুর পরপর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।