নাটোরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনুমোদনহীন ও ভেজাল ওষুধ তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ, কাঁচামাল, উৎপাদন যন্ত্রপাতি ও প্যাকেজিং সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইফতেখার আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহা, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পার আটঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় অনুমোদন ছাড়াই ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে মো. খোকন মিয়া (২৮), মো. শরিফুল ইসলাম (২৮) এবং মো. তারিকুল ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত খোকন মিয়া জানান, তিনি প্রায় এক বছর ধরে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরি ও বিক্রি করে আসছিলেন। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রাহকের কাছে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হতো এবং এ থেকে বছরে আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আয় করতেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে কারখানা থেকে ক্যাপসুল তৈরির মেশিন, ট্যাবলেট প্রেস মেশিন, ক্যাপসুল লোডার, ড্রায়ার, প্যাকেজিং মেশিন, কম্প্রেসর, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ক্যাপসুল, ওষুধ তৈরির পাউডার, রাসায়নিক কাঁচামাল, প্যাকেজিং স্টিকার, লেবেল এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রস্তুতকৃত ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ভেজাল ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।