ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির জন্য ‘অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক বিশেষ লিখিত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করেছে। তার দাবি, ওয়াশিংটনের এমন কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে আধিপত্যবাদ, দাদাগিরি ও বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন।

মোজতবা খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানি জনগণ ও তাদের মিত্র প্রতিরোধ ফ্রন্ট এমন জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। তেহরান জানিয়েছে, সামরিক চাপের মুখেও তারা কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, সেতু, রেলপথ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জানায়, ওই সমঝোতা আর কার্যকর নেই। ফলে নতুন করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।