কর্মক্ষেত্রেই সন্তানের যত্ন: লালমনিরহাটের সেই কর্মজীবী মায়ের পাশে জেলা সমবায় কর্মকর্তা

​লালমনিরহাট প্রতিনিধি, ফারুক সূর্য। প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

অফিসের দায়িত্ব পালনের ফাঁকে দেড় বছরের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো এবং অফিসের এক কোণে তোশক বিছিয়ে ঘুম পাড়ানোর ঘটনাকে ইতিবাচক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন লালমনিরহাট জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. মাহবুবুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কর্মজীবী মায়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব এবং একজন মায়ের মাতৃত্ব পালন কোনোভাবেই অপরাধ বা নিয়মবহির্ভূত কাজ নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই লালমনিরহাট জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মলি বেগমকে নিয়ে একটি অনলাইন পেইজে ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেড় বছরের সন্তানকে অফিসে আগলে রাখা, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং নিরাপদ স্থানে ঘুম পাড়ানোর দৃশ্য তুলে ধরা হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “মলি বেগম আমাদের অফিসের একজন নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মী। একজন মা হিসেবে তার দেড় বছরের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বা অফিসে নিরাপদ আশ্রয়ে ঘুম পাড়ানো কোনো অপরাধ বা নিয়মবহির্ভূত কাজ নয়। মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কর্মক্ষেত্রে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের। আমরা আমাদের অফিসে কর্মজীবী মায়েদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সবসময় সচেষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, একজন নারী একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন—এটি প্রশংসার দাবি রাখে। অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে হাইকোর্ট দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) স্থাপনের নির্দেশনা দেন। এছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১ অনুযায়ীও কর্মক্ষেত্রে মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনি দায়িত্ব।

জেলা সমবায় কর্মকর্তার এ মানবিক অবস্থানকে স্থানীয় কর্মজীবী নারী, সমাজসচেতন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন মহল স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন সহযোগিতাপূর্ণ ও সংবেদনশীল মনোভাব কর্মক্ষেত্রে নারীদের আরও নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও উৎসাহের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্ববান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হবে।