আজ বিশ্ব সাপ দিবস

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

আজ ১৬ জুলাই বিশ্ব সাপ দিবস। প্রতিবছর এ দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সাপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরা।

সাপের নাম শুনলেই অনেকের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির সাপ থাকলেও এর মধ্যে অল্পসংখ্যকই বিষধর। অর্থাৎ অধিকাংশ সাপ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়।

দীর্ঘদিন ধরে লোকবিশ্বাস, গল্প-উপকথা ও সামাজিক ধারণায় সাপকে ভয়ংকর ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বাস্তবতার তুলনায় সাপকে নিয়ে মানুষের মধ্যে অযথা ভীতি ও নেতিবাচক মনোভাব বেশি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইতিহাস ও বিভিন্ন সভ্যতায় সাপের গুরুত্বও কম নয়। সনাতন ধর্মে সাপ পূজিত হয় দেবতার প্রতীক হিসেবে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়ও সাপকে সুরক্ষা ও শক্তির প্রতীক মনে করা হতো। সে সময়ের পোশাক, অলংকার এবং রাজকীয় প্রতীকেও সাপের নকশার ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য।

আয়ারল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তিতে এক ধর্মপ্রচারকের মাধ্যমে দ্বীপ থেকে সব সাপ তাড়িয়ে দেওয়ার গল্প প্রচলিত রয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং লোককাহিনিরই অংশ।

চীনা লোককাহিনি ও পুরাণেও সাপের বিশেষ উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে সাদা সাপকে পানির দেবতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানুষ ও সাপরূপী দেবীর প্রেমকাহিনি নিয়েও বহু সাহিত্য ও নাটক রচিত হয়েছে। তবে অনেক কাহিনির শেষভাগে সাপকে ভয়ংকর চরিত্রে তুলে ধরায় মানুষের মধ্যে এ প্রাণী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গ্রিক পুরাণেও সাপের উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে মাথাভর্তি জীবন্ত সাপযুক্ত এক পৌরাণিক চরিত্রের গল্প বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

গবেষকদের ধারণা, সাপের পূর্বপুরুষ ছিল টিকটিকি-জাতীয় স্থলচর প্রাণী। প্রায় ১৬৭ মিলিয়ন বছর আগের সবচেয়ে প্রাচীন সাপের জীবাশ্ম বর্তমান ইংল্যান্ড অঞ্চলে পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অযথা ভয় বা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে সাপ হত্যা না করে এ প্রাণী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং সংরক্ষণে সচেতন হওয়াই বিশ্ব সাপ দিবসের মূল বার্তা।