সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়খাল বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনে অসতর্কতা ও তদারকির ঘাটতির কারণে ৭৭ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় বরইউড়ি আলিম মাদ্রাসার ১৯ জন, দ্বীনেরটুক আলিম মাদ্রাসার ৩০ জন এবং কলাউড়া ফাজিল মাদ্রাসার ২৮ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ভিন্ন ক্যাটাগরির প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছালেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা সঠিকভাবে যাচাই না করেই অন্য প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। পরীক্ষার্থীদের ধরন ও প্রশ্নপত্রের ক্যাটাগরি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন অভিভাবকরা।
তারা বলেন, এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা কোনো ভুল করেনি, তাই প্রশাসনিক ত্রুটির দায় তাদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই এত বড় ভুলের দায় শেষ হতে পারে না। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মাওলানা কালিম উল্লাহ ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা আবুহেনা কামাল জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল ও শিক্ষাজীবন যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।