বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ, অথচ মৃত্যুর মিছিলে শীর্ষে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা এখনো অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)-এর সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ে ২১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এসব মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পতাকা টানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, খেলার উত্তেজনায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং আত্মহত্যার মতো ঘটনায়।

সম্প্রতি কুমিল্লায় লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টি মিস নিয়ে ঠাট্টা-তামাশাকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। নিহত শরিফুল ব্রাজিলের সমর্থক ছিলেন। এ ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনজন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বা ভবন থেকে পড়ে মারা গেছেন। কয়েকজন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ব্রাজিলের বিদায়ের পর এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালে Journal of Injury and Violence Research-এ প্রকাশিত ঢাকার বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, ২০২২ বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, নিহত সবাই পুরুষ এবং তাদের গড় বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিকভাবে দূরের কোনো দেশের ফুটবল দলকে নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও উসকানিমূলক আচরণ এবং অন্ধ সমর্থন অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, খেলাধুলা বিনোদনের বিষয় হলেও অতিরিক্ত আবেগ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বাংলাদেশের বাইরে অন্যান্য দেশেও বিশ্বকাপ ঘিরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মেক্সিকোতে জয় উদ্‌যাপনের সময় অতিরিক্ত ভিড়ে পিষ্ট হয়ে তিনজন এবং হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যান জোনের কাছে পৃথক দুটি গোলাগুলির ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। স্পেনে মোটরসাইকেলে পতাকা জড়িয়ে উদ্‌যাপনের সময় দুর্ঘটনায় এক নারী সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এক জার্মান পর্যটক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান।

বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল মানুষের আনন্দ ও সম্প্রীতির প্রতীক হওয়া উচিত। খেলাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ, সহিংসতা কিংবা প্রাণহানির মতো ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।