প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় উঠে আসে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সীমিত আয়তনের দেশে বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কৃষি কার্ড কর্মসূচি এবং অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিষয় উল্লেখ করেন।

তিনি দুর্গম চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সম্প্রসারণ হলে কৃষি, সেচ, পণ্য সংরক্ষণ ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত সংরক্ষণ, পরিবহন ব্যবস্থা এবং কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।

তিনি বাংলাদেশে আমদানি করা মার্কিন পণ্য বন্দরে খালাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে নজরুল ইসলাম খান জানান, বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্দরের কার্যক্রম দ্রুততর করা এবং আমদানি-রপ্তানিতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম এবং শ্রম আইন সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাকসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে কর্মপরিবেশ ও শ্রমমান উন্নয়নে অগ্রগতি হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং আইন কার্যকর করার বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ সংকটের একটি নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ অব্যাহত রাখা জরুরি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি জটিল বিষয়, যার সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

শিক্ষা খাতের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের বিষয় উঠে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষে এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ. স্টুয়ার্ট এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন ও সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বৈঠকে অংশ নেন।