গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। তবে টানা বৃষ্টির পর বিভিন্ন কারখানার দূষিত পানি ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগের আশঙ্কা। বিশেষ করে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জলাবদ্ধতার এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কালিয়াকৈর পৌরসভায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। গত তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া, হরিণহাটি, উলুসরা, পল্লীবিদ্যুৎ দীঘিরপাড়, জোড়া পাম্প, হরতকিতলা, ডাইনকিনী, পূর্ব চান্দ্রাসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।
সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর রাস্তাঘাট ও বাড়ির আশপাশে জমে থাকা কাদা, ময়লা-আবর্জনা এবং দূষিত পানি নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে নোংরা পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তারা জানান।
এলাকাবাসী দ্রুত বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা এ. এইচ. এম. ফখরুল হোসাইন জানান, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় সোমবার বিকেলে ৫০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাবদ্ধতার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।