টাইফুন ‘বাভি’র আঘাতের শঙ্কা, উত্তর কোরিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

প্রবল শক্তি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। এর প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রবল ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পিয়ংইয়ংসহ দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে উত্তর কোরিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দেশটির সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকার। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন সব সরকারি সংস্থাকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানিয়েছে, টাইফুন ‘বাভি’ মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে উত্তর কোরিয়ার মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করতে পারে। তবে মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিম জং উন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় কোনো ধরনের গাফিলতি না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত আকস্মিক ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় আরও বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি পশ্চিম উপকূল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির দুর্বল অবকাঠামো ও সীমিত অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকায় আগাম প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। দেশটির কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক মানুষ বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং এলাকায় নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। সিউলের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত দুই কোরিয়াতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উভয় দেশেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।